চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ এএম

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দীর অপেক্ষার পর চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে অভিযান সম্পন্ন করে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৭ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে তাদের বহনকারী ওরিয়ন মহাকাশযান ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে সফলভাবে অবতরণ করে।

প্যারাস্যুটের সাহায্যে সমুদ্রে নামার পর ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে নভোচারীদের প্রথমে একটি বিশেষ নৌযানে নেওয়া হয়। এই ধাপটিকে মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ফ্রন্ট পোর্চ। পরে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক উদ্ধারকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিক্যাল বেতে স্থানান্তর করা হয়।

জাহাজে থাকা চিকিৎসক দল ইতোমধ্যে নভোচারীদের শারীরিক পরীক্ষা শুরু করেছে। এতে তাদের হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় মহাকাশে ভারহীন অবস্থায় থাকার পর এটি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হিসেবে করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।

নাসা জানিয়েছে, ১০ দিনের পরিকল্পিত মিশনটি শেষ হয়েছে ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে। এই মিশন শুরু হয়েছিল ১ এপ্রিল, যেখানে অংশ নেন রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেন।

এই অভিযানের মাধ্যমে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের দীর্ঘদিনের রেকর্ডও ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে আর্টেমিস-২। চাঁদের দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাদের সর্বোচ্চ দূরত্ব দাঁড়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল, যা ১৯৭০ সালের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।

মিশন চলাকালে নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠের পাশ দিয়ে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের দৃশ্যও প্রত্যক্ষ করেন, যা ছিল বিরল এক অভিজ্ঞতা।

এই মিশনকে মহাকাশ গবেষণায় বৈচিত্র্যের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অমার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের ইতিহাস গড়েছেন।

ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে নামার পর নভোচারীরা যখন উদ্ধারকারী জাহাজে ওঠেন, তখন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থাকা বিজ্ঞানীরা করতালির মাধ্যমে তাদের সাফল্য উদযাপন করেন।

এই সফল মিশন নাসার ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানব অবতরণের বৃহৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা মঙ্গল গ্রহ অভিযানের পথও আরও সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম ও নেটফ্লিক্সসহ একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সূত্র: এএফপি ও সিএনএন

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495