ইরান যুদ্ধ বন্ধে এবার চীনের দ্বারস্থ ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, তেহরানের সঙ্গে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় বেইজিং আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চীন এখন পর্যন্ত যে অবস্থানে রয়েছে তাতে তিনি পুরোপুরি হতাশ নন, তবে দেশটির কাছ থেকে আরও বেশি সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটে তার মিত্রদের পাশে দাঁড়ায়, একইভাবে ইরান ইস্যুতেও চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে বেইজিংয়ের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চায় ওয়াশিংটন।
আগামী ১৪ মে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে ইরান ইস্যু প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা দূর করার কৌশল নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় দেশটি চাইলে এই সংঘাত নিরসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বেইজিং সরাসরি মধ্যস্থতা করলে বা তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিশ্বাস করেন, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কাজে লাগিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো সম্ভব।
আসন্ন এই বৈঠককে শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক বার্তা থেকে স্পষ্ট, তারা ইরান সংকটে সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপ জোরদার করতেই চায়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে চীনের প্রভাব তেহরানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা বন্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই