আপনি একজন মহান নেতা, আপনার বন্ধু হতে পারা সম্মানের: শি’কে ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতাদের বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শুরু থেকেই বৈঠকের পরিবেশ ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।
বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিংকে “মহান নেতা” বলে অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শি জিনপিংয়ের বন্ধু হতে পারা তার জন্য সম্মানের বিষয়। ট্রাম্পের ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে অতীতে নানা জটিলতা থাকলেও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে।
এ সময় ট্রাম্প জানান, তিনি বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের একটি বড় দল নিয়ে বেইজিং সফরে এসেছেন। শি জিনপিংকে সম্মান জানাতেই এই প্রতিনিধিদল সঙ্গে আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প এই সফরকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, শি জিনপিং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে অস্থির বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন এমন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যা গত একশ বছরে দেখা যায়নি।
চীনের প্রেসিডেন্ট দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নও উত্থাপন করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কি পারস্পরিক বিরোধ এড়িয়ে নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে সক্ষম হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
শি জিনপিং আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করাই দুই দেশের জন্য বেশি কার্যকর। তিনি সম্পর্ক উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দনও জানান শি জিনপিং। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যের চেয়ে মিল বেশি এবং সংঘাতের তুলনায় সহযোগিতাই বেশি লাভজনক।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বৈঠকে বাণিজ্য ইস্যুই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র চায়, চীন যেন তাদের কৃষিপণ্য, বিমানসহ বিভিন্ন পণ্য আরও বেশি আমদানি করে।
অন্যদিকে, বিরল খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে চীন—এমন মত বিশ্লেষকদের।
এ ছাড়া ইরান ইস্যুকেও কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই বৈঠক বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।