হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কেরানীগঞ্জে কিশোর জিহাদকে হত্যা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক পুলিশপ্রধান আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তে উঠে এসেছে—যাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল, সেই জিহাদ আসলে জীবিত রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল সম্পর্কেও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। এসব ‘তথ্যগত ভুল’ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না সব আসামিকে অব্যাহতি দেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক বদিয়ার রহমানের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন। তদন্ত শেষে গত বছরের আগস্টে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আদালত তা গ্রহণ করে অব্যাহতির আদেশ দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র এবং জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভুক্তভোগী জীবিত এবং সে নিজেই আদালতে জখম হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। ফলে এটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, ছাত্র আন্দোলনের সময় কেরানীগঞ্জে জিহাদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কিন্তু তদন্তে জানা যায়, সে সাভার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিল এবং পরে চিকিৎসা নেয়।

তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘটনাটি কেরানীগঞ্জে নয়, ভিন্ন স্থানে ঘটেছে। জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে এবং ভিন্ন স্থানের ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে দেখিয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা মহানগরের সরকারি কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের মিথ্যা মামলা করেছে। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে।

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, এ ধরনের মিথ্যা মামলা দায়েরকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ মামলার এক আসামির আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি শুরুতেই যাচাই করা হলে নিরীহ মানুষকে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হতো না।

তদন্ত কর্মকর্তা বদিয়ার রহমান জানান, মামলাটিতে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো এবং ভিন্ন স্থানের ঘটনাকে অন্যত্র দেখানোর মতো গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তাই কোনো সত্যতা না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495