শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড, রাজসাক্ষী মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৪ এএম

শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড, রাজসাক্ষী মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হিসেবে থাকা পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার ট্রাইব্যুনাল–১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়—উসকানিমূলক বক্তব্য, আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে করা মামলাগুলোর মধ্যে এটাই প্রথম রায়। তবে রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক, দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি সাবেক আইজিপি আল–মামুন আদালতে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ বারবারই দাবি করেছে- জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সমস্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন শেখ হাসিনা; তিনিই ছিলেন পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা এবং সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পরিচালনার জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালটি পুনর্গঠিত হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর। এরপরই পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাকে আসামি করে প্রথম মামলা দায়ের হয়। গত অক্টোবরে অভিযোগ গ্রহণের পর তদন্ত ও সাক্ষ্য–প্রমাণ উপস্থাপন শুরু হয়।

মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন- আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তি, আহত, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসকসহ বিভিন্নজন। আদালতে অডিও–ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং জব্দ করা গুলিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

গত ১২ অক্টোবর যুক্তি–তর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। সেদিনই রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495