মাইলস্টোন স্কুল নয়, বিমান পড়া দরকার ছিল সচিবালয়ের ওপর: উপদেষ্টা ফাওজুল কবির
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
সচিবালয়সহ সরকারি দপ্তরগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, বর্তমান আমলাতন্ত্র দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় পেশাজীবী চালক ও শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাবেক সচিব ফাওজুল কবির খান আমলাতন্ত্রের প্রতি জনগণের ক্ষোভের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সম্প্রতি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের কাছে সংঘটিত বিমান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ‘মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে যে বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে, এই বিমানটি মাইলস্টোনে নয়—সচিবালয়ের ওপর পড়া দরকার ছিল। সচিবালয়সহ সরকারি প্রতিটি দপ্তরের ওপর জনগণ ব্যাপক ক্ষুব্ধ।’
আমলাতন্ত্রকে ‘জগদ্দল পাথর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এটি জনগণের বুকে চেপে বসেছে। এখানে মানবিক দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের ধরন নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, অফিসে আসা-যাওয়া, সভা, লাঞ্চ ও চিঠি চালাচালির মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। তিনি দাবি করেন, নিজের নেওয়া নানা উদ্যোগ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে রয়েছে।
সড়ক পরিবহন খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিলেও আমলারা পরিবর্তন চান না। বরং তারা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা ও দুর্নীতির ক্ষেত্র বাড়াতে আগ্রহী বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় ফাওজুল কবির খান বলেন, সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবক হলেও জনস্বার্থ তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয় না। জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার না দিলে এই অচলাবস্থার অবসান ঘটবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিআরটিসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পরিবহন শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।