দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শুধু অর্থনীতিই নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের বৈঠকে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার কোন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে—সেই চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, দায়িত্ববোধ থেকেই ২০০৫-০৬, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তার দাবি, গত ১৬ বছরে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ফলে অর্থনীতির ভেতরে গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

শিল্প ও কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধির ধাক্কা স্পষ্ট হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে এবং কৃষি খাতে তা ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে নেমে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না বাড়ায় তরুণদের একটি বড় অংশ কৃষি খাতে ঝুঁকছে। এতে আড়াল বেকারত্ব বেড়েছে এবং উৎপাদনশীলতা কমে গেছে। বর্তমানে কৃষি খাতে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪১ শতাংশ থাকলেও জাতীয় উৎপাদনে এর অবদান মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্যহীনতার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, জাতীয় সঞ্চয়ের হার ২৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ থেকে কমে ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। একইসঙ্গে মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া এবং রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয়ের কারণে সরকারের আয় সক্ষমতা সীমিত রয়েছে।

তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বড় প্রকল্পগুলো অতিমূল্যায়িত হওয়ায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পায়নি, বরং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার বিষয়টি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সুদ পরিশোধের ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রপ্তানি-আমদানিতেও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থপাচার ও অনিয়মের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495