নির্বাচন হলে দেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে: সেনাসদর
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৬ পিএম
দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছে সেনাসদর।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সেনাসদরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও আর্মি সদর দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
তিনি বলেন, “দেশের জনগণের মতো সেনাবাহিনীও চায় সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি ও রূপরেখা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আমরা আশা করি, নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং সেনাবাহিনী সেনানিবাসে ফিরে যেতে পারবে। আমরা সেই মুহূর্তটির অপেক্ষায় আছি।”
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান জানান, সরকারের নির্বাচনী রূপরেখার ওপর ভিত্তি করে সেনাবাহিনী যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এখন সীমিত আকারে চলছে। তবে নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও করণীয়কে কেন্দ্র করেই বর্তমানে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। আমরা একটি নীতিতে বিশ্বাস করি—‘We train as we fight’। কিন্তু গত ১৫ মাস ধরে আমরা মাঠে রয়েছি, যা আমাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে কিছুটা ব্যাহত করছে।”
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান বলেন, “নির্বাচন পর্যন্ত কিংবা তার কিছুটা পরেও যদি বাইরে থাকতে হয়, তাহলে আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ সময় সেনাবাহিনী অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গত ১৫ মাসের অভিজ্ঞতা সেনাবাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল। এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশে আগে দেখা যায়নি। তবুও আমাদের বাহিনী পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। এখন আমরা চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, যাতে আমরা আমাদের মূল দায়িত্ব — প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিতে — ফিরে যেতে পারি।”
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় দেশের সংবিধান, সরকার এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। শান্তি, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”