দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারণা করায় ভয়াবহ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছি: ডা. মিতু
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে ভয়াবহ মাত্রার সাইবার বুলিং ও অনলাইন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু।
এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, জামায়াত-সমর্থিত জোটের হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অনলাইনে কুৎসা রটনা, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, আগের তুলনায় সাইবার আক্রমণের মাত্রা প্রায় একশ গুণ বেড়েছে।
ডা. মাহমুদা মিতু অভিযোগ করেন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষা ব্যবহার, চরিত্রহনন এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, একজন নারী হিসেবেও তাকে গভীরভাবে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি দাবি করেন, এই অনলাইন হেনস্তার পেছনে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির কর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তার মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার দলের কর্মীদের ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এসব সাইবার আক্রমণের নৈতিক দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। দক্ষিণাঞ্চলে একজন নারী নেতা হিসেবে তার সক্রিয় মাঠপর্যায়ের ভূমিকা এবং জামায়াত-সমর্থিত জোটের হয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যুক্ত হওয়াই তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর মূল কারণ বলে তিনি মনে করেন।
ডা. মাহমুদা আলম মিতু জানান, নির্বাচনী পরিবেশে নারী রাজনীতিকদের ভয় দেখানো এবং মনোবল ভেঙে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই সাইবার বুলিংকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল তিনি এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সাংগঠনিক টিমে ডেপুটি অর্গানাইজার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই দায়িত্বে তিনি নোয়াখালী, বরিশাল, কুষ্টিয়া, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তাকে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি স্থানীয় উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে সক্রিয় হন। ৩০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তা বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে দলীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং জামায়াত জোটের সমর্থনের প্রেক্ষাপটে ২০ জানুয়ারি তিনি নিজেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপরও তিনি জোটের পক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের নোংরামি ও সাইবার বুলিং ভয়াবহভাবে বেড়েছে। যারা এসব নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ, তাদেরই এর দায় নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ভয় পাই না। একজন নারী ও একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এই প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। গণতন্ত্রে ভিন্ন মত থাকবেই, কিন্তু মতের কারণে নারীদের এভাবে হেনস্তা করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সবশেষে তিনি জানান, এসব সাইবার সহিংসতার বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ও সামাজিক—দুইভাবেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারী রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।