ফরিদপুরে বিএনপির কার্যালয় ও দোকানে আ.লীগের হামলা-ভাঙচুর, আহত ২০

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ও বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের প্রায় ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা ও তার সহযোগীরা ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে ২০২০ সালে সেখানে কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ নিয়ে একাধিকবার মামলা-মোকদ্দমাও হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠকের কথা থাকলেও চেয়ারম্যান পক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই স্থাপনায় তালা লাগিয়ে দেন।

এর জেরে শনিবার বিকেলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানপক্ষের সমর্থকরা চরপাড়া বাজারে এসে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একই সময় ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা নেতা এনামুল চৌধুরীর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, শতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই হামলায় অংশ নেয়। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিল্লাল হোসেন মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও তিনি জমির দখল নিতে পারেননি। বর্তমানে জমিটি চেয়ারম্যান পক্ষের দখলে রয়েছে। তিনি বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও মারধরের অভিযোগ করেন।

ছিরু মাতুব্বর জানান, তার সারের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা বলেন, তার বাজারের দোকানে তালা দেওয়া হয়েছে এবং তার লোকজনকে উসকানি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজনই এসব ভাঙচুর করে উল্টো তাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495