কুড়িগ্রামে ডিসির উপর ‘জিহাদি হামলা’ চলছে, দাবি তসলিমা নাসরিনের, সরেজমিনে মিলেনি কোন প্রমাণ
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথের বিরুদ্ধে ‘জিহাদি হামলা’ চলছে- এমন অভিযোগ তুলেছেন ভারতে অবস্থানরত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে এমন কোনো হামলা বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ভারতে অবস্থানরত লেখিকা তসলিমা নাসরিন রবিবার (৪ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথকে ঘিরে ‘জিহাদি হামলা’ ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ করেন। পোস্টে তিনি দাবি করেন, দেশে হিন্দু বিদ্বেষ উসকে দিয়ে মব সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রামে সরেজমিন অনুসন্ধানে তসলিমা নাসরিনের দাবির সঙ্গে মিল রেখে কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা, হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ কিংবা সহিংস ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে কুড়িগ্রাম-৩ (২৭) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নথিপত্র না দেখেই জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহির মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
মনোনয়ন বাতিলের পর ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের কাগজপত্র না দেখেই জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ নিজের মতো করে ঘোষণা দিয়ে চেয়ার থেকে উঠে চলে যান। আমাদের কথা বলারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এর মানে দাঁড়ায়—কারো প্রেসারের কারণে, অথবা অন্য কারো মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন।”
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সভাকক্ষের বাইরে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা সিদ্ধান্তটিকে ‘অন্যায় ও একতরফা’ দাবি করে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ করেন। তবে বিক্ষোভ চলাকালে কোনো ধরনের হামলা, ভাঙচুর বা সাম্প্রদায়িক স্লোগানের ঘটনা প্রত্যক্ষ করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভটি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং মূলত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকলেও কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি নির্বাচনসংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তেজনাকেই তসলিমা নাসরিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জিহাদি হামলা’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার সরাসরি মিল নেই। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন গুরুতর অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি অযথা উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সার্বিকভাবে, কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসককে ঘিরে ‘জিহাদি হামলা’ সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে সরেজমিনে কোনো সহিংস বা সাম্প্রদায়িক ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। ঘটনাটি মূলত একটি নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও তার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তেজনা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।