কুড়িগ্রামে চার আসনেই হার, ধানের শীষের ভরাডুবির কারণ গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীকের কোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

দলীয় সূত্রের দাবি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং, বিতর্কিত নেতৃত্ব, সমন্বয়হীনতা এবং ভোটের জটিল সমীকরণের কারণেই এমন ভরাডুবি হয়েছে।

জেলা আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজের বলয়ের নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়ন এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত একটি মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা—এসব বিষয় মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তৃণমূলের দাবি।

কুড়িগ্রাম-১: গ্রুপিংয়ের অভিযোগ

নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা পরাজয়ের জন্য জেলা নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, উপজেলা কমিটিকে তাকে হারাতে প্রভাবিত করা হয়েছে।
ফলাফল: দাঁড়িপাল্লা ১,৩৪,৬৪৮; ধানের শীষ ১,১৭,৩৫৬ (ব্যবধান ১৭,২৯২)।

কুড়িগ্রাম-২: বিতর্কিত কমিটি ও সমন্বয়হীনতা

সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে কমিটি গঠন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ছিল। টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিতদের দায়িত্ব দেওয়া হয়—এমন অভিযোগ রয়েছে। জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা জানান, ৫১ সদস্যের কমিটির বেশিরভাগকেই মাঠে সম্পৃক্ত করা যায়নি। ফলাফল: শাপলাকলি ১,৭৯,৩৮৬; ধানের শীষ ১,৬৯,৩৮৬ (ব্যবধান ১০,৪০০)।

কুড়িগ্রাম-৩: দ্বন্দ্বে বিপর্যয়

উলিপুরকেন্দ্রিক এ আসনে প্রার্থী তাসভীর উল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের বিরোধ প্রকাশ্য ছিল। প্রার্থীর অভিযোগ, দলীয় একাংশ মাঠে ধানের শীষে ভোট দেয়নি।
ফলাফল: দাঁড়িপাল্লা ১,০৫,৫৯৪; ধানের শীষ ৭৭,৯৬৩ (ব্যবধান ২৭,৬৩১)।

কুড়িগ্রাম-৪: নিষ্ক্রিয়তা ও স্বতন্ত্র প্রভাব

চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর নিয়ে গঠিত আসনে দলীয় নিষ্ক্রিয়তা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রভাব বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফলাফল: দাঁড়িপাল্লা ৭৮,৯৪৩; ধানের শীষ ৫৭,৯৪৫ (ব্যবধান ২০,৯৯৮)।

ভোটের সমীকরণ ও বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, জেলার বিভিন্ন আসনে আওয়ামী ঘরানার ও হিন্দু ভোটারদের কৌশলগত ভোটও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তবে দলীয় ঐক্য দৃঢ় থাকলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে মত স্থানীয়দের।

সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, একক কোনো কারণ নয়—নেতৃত্ব সংকট, গ্রুপিং, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, বিতর্কিত কমিটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রভাব মিলিয়েই কুড়িগ্রামে ধানের শীষের ভরাডুবি হয়েছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495