১৫ লাখের চুক্তি, সাত লাখ টাকা ঘুস নিয়ে আসায় শিক্ষক আটক

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

এমপিওভুক্তির সুপারিশ আদায়ের লক্ষ্যে রংপুর জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ে সাত লাখ টাকা নিয়ে গিয়ে আটক হয়েছেন কুড়িগ্রামের এক শিক্ষক। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

আটক মাইদুল ইসলাম খান কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্তির সুপারিশের জন্য জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের উপপরিচালক রোকসানা বেগমের কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটরের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। তবে নির্ধারিত টাকার পরিবর্তে সাত লাখ টাকা নিয়ে আসায় তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর গত বুধবার মাইদুল ইসলামের স্ত্রী জাহানারা বেগম নিজ এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন, শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর সঙ্গে তার স্বামীর কথাবার্তা হয়েছিল। জমি বন্ধক রাখা ও গরু বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে অফিসে নেওয়া হলেও টাকা কম হওয়ায় তাকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও তিন কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার জন্য ১৫ লাখ টাকার সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু পুরো টাকা না দেওয়ায় ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেয়। তাদের ভাষ্য, উপপরিচালকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর মাধ্যমেই এসব যোগাযোগ ও সমঝোতা হয়ে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, উপপরিচালক যেখানে বদলি হয়েছেন, সেখানেই ওই কম্পিউটার অপারেটরকে সঙ্গে নিয়ে গেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ তার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। যদিও কর্মকর্তাদের দাবি, উপপরিচালক সরাসরি কোনো অর্থ গ্রহণ করেন না; সব যোগাযোগ হয় নির্দিষ্ট কর্মচারীর মাধ্যমে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আঞ্চলিক পরিচালক আমির আলী বলেন, ঘটনার পেছনে আরও কিছু বিষয় থাকতে পারে। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

উপপরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, ঘটনার দিন মাইদুল ইসলাম তার কক্ষে এসে একটি বার্তা দেখান, যেখানে এক শিক্ষকের জন্য পাঁচ লাখ এবং তিন কর্মচারীর জন্য তিন লাখ টাকা আনার কথা উল্লেখ ছিল। পরে তিনি একটি ব্যাগে উপহার আছে বলে জানান। ব্যাগ খুলে টাকা দেখতে পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করেন।

১৫ লাখ টাকার চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ২০২০ সাল থেকে এমপিওভুক্ত। কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তারা যোগাযোগ করেছিলেন, তবে নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছিল।

কম্পিউটার অপারেটর আশরাফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, নিজের কাজ নিজেই করেন এবং ঘুষ নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কেউ অভিযোগ করলে প্রমাণ দিতে হবে।

ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করে মাইদুল ইসলাম বলেন, আগে যোগাযোগ করেও কাজ না হওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন কিছু টাকা দিলে হয়তো কাজটি সম্পন্ন হবে। সে উদ্দেশ্যেই সাত লাখ টাকা নিয়ে যান।

রংপুর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক শাওন মিয়া জানান, উপপরিচালকের ফোন পেয়ে একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে, পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রয়োজন হলে কমিশন তদন্ত করবে।

রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি শাহাজন আলী বলেন, খবর পেয়ে গিয়ে উপপরিচালকের কক্ষে এক ব্যক্তিকে কালো ব্যাগসহ পাওয়া যায়। ব্যাগে সাত লাখ টাকা ছিল। পরে তাকে দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495