দিঘির ঘাটে কুমিরের মুখে কুকুর, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানাল প্রত্যক্ষদর্শীরা

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে একটি কুকুর কুমিরের মুখে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী এটি কোনো পরিকল্পিত ঘটনা নয়, বরং সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনা।

ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছিল, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাদ্য হিসেবে পানিতে ফেলা হয়েছে এবং এমনকি তার পা বাঁধা ছিল বলেও দাবি করা হয়। তবে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সময় উপস্থিত মাজারের খাদেম, নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয়দের মতে, গত ৮ এপ্রিল বিকেলে একটি অসুস্থ কুকুর আশপাশের কয়েকজনকে কামড় দেয়। পরে সেটিকে তাড়াতে গেলে কুকুরটি দৌড়ে দিঘির ঘাটের দিকে চলে যায়।

মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার জানান, কুকুরটি তাকে আঁচড় দিলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে গেলে কুকুরটি পাশের দিঘিতে পড়ে যায়। এরপর দিঘিতে থাকা কুমিরটি দ্রুত কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি আহত হয়ে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুরটি আগে থেকেই অসুস্থ ও আক্রমণাত্মক ছিল এবং একাধিক মানুষ ও গৃহপালিত প্রাণীকে কামড় দিয়েছে। স্থানীয়দের তাড়ার কারণেই সেটি দিঘির দিকে চলে যায়।

মাজার সংলগ্ন এক দোকানি জানান, কুকুরটি একটি শিশুকেও কামড় দিয়েছিল। পরে সেটি পানিতে পড়ে গেলে কুমির সেটিকে ধরে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অনেক ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান তপু বলেন, দিঘির কুমির দীর্ঘদিন ধরে কিছুটা মানুষের সঙ্গে অভ্যস্ত হলেও এটি একটি বন্য প্রাণী। হঠাৎ কিছু পানিতে পড়লে কুমির স্বাভাবিকভাবেই আক্রমণ করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধার করতে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে দিঘিতে একটি মাত্র কুমির রয়েছে। আগে একাধিক কুমির থাকলেও পরে তা কমে যায় এবং ২০০৫ সালে ভারত থেকে নতুন কুমির এনে এখানে অবমুক্ত করা হয়।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভাইরাল ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার অংশ হলেও এর সঙ্গে যুক্ত অনেক দাবি অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন। এটি ছিল একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা, কোনো পরিকল্পিত ঘটনা নয়।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495