কুষ্টিয়ায় কথিত পীরকে হত্যা, ময়নাতদন্ত শেষে দরবারের পাশেই দাফনের প্রস্তুতি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে কথিত এক পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এখনো উত্তেজনা ও আতঙ্ক কাটেনি। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ।
রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাথা, ঘাড় ও পিঠে গুরুতর জখম পাওয়া গেছে।
এর আগে শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ঘটনাস্থলেই শামিম নামে ওই ব্যক্তি নিহত হন। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুর রহমান (৬৫), যিনি ‘শামিম বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন, দরবারটির প্রধান ছিলেন। হামলায় তার তিন অনুসারী আহত হলেও তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিহতের বড় ভাই জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত শেষে দরবার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পরিবার উদ্বেগে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে।