দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টি, শোকে স্তব্ধ গ্রাম
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি আর জীবিত দেশে ফিরলেন না। নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে খণ্ডিত মরদেহে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। শনিবার তার মরদেহ মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
শনিবার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃষ্টির মরদেহ পৌঁছায়। এরপর দুপুরে মরদেহ নেওয়া হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে। একমাত্র মেয়ের নিথর দেহ শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও শৈশবের বন্ধুরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন বৃষ্টি। সেখানে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের বিরোধের জেরে গত ১৬ এপ্রিল ক্যাম্পাস থেকে তাদের অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ৩০ এপ্রিল দেশটির পুলিশ বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, সবসময় প্রাণবন্ত থাকা মেয়েটির এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু লাশ হয়ে ফিরবে তা কখনো ভাবেননি। তিনি মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বৃষ্টিকে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এই তরুণীর অসমাপ্ত জীবন এখন স্বজনদের কান্না ও বিচার দাবির প্রতীকে পরিণত হয়েছে।