গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজন হত্যার রাতে যা করেছিলেন ঘাতক ফোরকান
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১২:২১ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে গত শনিবার সকালে শারমিন আক্তার, তার তিন মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়ার (২২) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই শারমিন আক্তারের স্বামী ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনিই জড়িত।
এদিকে হত্যার রাত নিয়ে ফোরকানের স্থানীয় প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্য থেকে উঠে এসেছে তার বেশ কিছু সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড।
প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার দিন তার বাড়িতে মেহমান ছিল এবং তিনি দোকান থেকে পোলাওয়ের চাল ও কিশমিশ কিনেছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী বলেন, শুক্রবার রাতে ফোরকান দীর্ঘ সময় বাড়ির পাশের সড়কে হাঁটাহাঁটি করেন এবং মোবাইলে কথা বলেন। তখন তার কোলে ছিল ছোট মেয়ে ফারিয়া এবং সঙ্গে ছিল মেজ মেয়ে মারিয়া।
আরেক প্রতিবেশী জানান, রাত ৮টার দিকে ফোরকান বাড়িতে আসেন। এ সময় তার প্রাইভেটকার ছাড়াও আরও একটি গাড়ি আসে, যেখান থেকে কয়েকজন লোক নেমে যান।
স্থানীয় এক মুদিদোকানি বলেন, রাত ৯টার দিকে ফোরকান ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে দোকানে এসে কিশমিশ চান এবং মেয়ের জন্য দুটি চিপস কেনেন। তখন তার হাতে একটি কাপড়ের ব্যাগও ছিল। তিনি প্রায়ই ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে আসতেন।
অন্য এক দোকানি বলেন, বাবার এমন কাজ কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে সড়কে হাঁটতে দেখা গেছে, তখনও তার কোলে ছোট মেয়ে ছিল।
স্থানীয় এক নারী বলেন, শারমিন আক্তারের কোনো দোষ থাকলে তাকে তালাক দেওয়া যেত, কিন্তু সন্তান ও শ্যালকের কী দোষ ছিল। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আশফাক বলেন, নিহত নারীর বাবা শাহাদাত মোল্লা মামলা করেছেন। পুলিশ একাধিক দল গঠন করে আসামিকে গ্রেপ্তার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।