বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

লালমোহনে রাস্তা প্রশস্তকরণের সুযোগে রাস্তার পাশের শতাধিক সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল হাসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার থেকে কর্তারহাট বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে। এ কাজের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সড়কের দুই পাশ থেকে সরকারি প্রায় শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

কর্তারহাট বাজার থেকে রায়চাঁদ সড়ক ধরে এগোলেই চোখে পড়ে গাছ কাটার চিত্র। সড়কের দুই পাশে পড়ে রয়েছে অসংখ্য গাছের গুঁড়ি। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে দিন-রাত এসব গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। 

 

ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাইয়ুম আলম বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল হাসান কাঞ্চন এলজিইডি কার্যালয় থেকে গাছ কাটার অনুমতি নেওয়ার কথা বলে এসব গাছ কেটে নিয়েছেন।

 

বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে, প্রথমে লালমোহন রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে গত ৩০ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের জারি করা এক আদেশে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

 

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, লালমোহন সার্কেল এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। কেটে নেওয়া সরকারি গাছের সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ধারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল হাসান কাঞ্চন বলেন, এলাকার কিছু লোক ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এই গাছ কাটার সাথে জড়িত না।

 

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম খান বলেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি কোনো ধরনের অনুমতি কিংবা টেন্ডার ছাড়াই গাছগুলো কেটে নিয়েছেন। এর সাথে এলজিইডির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাত বিন সাদেক বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। কেটে নেওয়া গাছের সংখ্যা ও মূল্য নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495