দলীয় সরকারের অধীনে কখনো ভালো নির্বাচন হয় না: মাসুদ কামাল
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন শেষ হলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দুটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। তবে এই নির্বাচন ঘিরে নানা অভিযোগ ও সমালোচনা উঠে এসেছে।
সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল এক ভিডিও বক্তব্যে বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচন ছিল তুলনামূলকভাবে সুষ্ঠু, যেখানে বিএনপি জয়লাভ করেছিল এবং বিচারপতি আব্দুর রউফের নেতৃত্বে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। তবে পরবর্তীতে মাগুরার একটি উপনির্বাচনে একই মান বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, এসব অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যদি সরকার রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মাসুদ কামাল আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের অধীনে এটিই প্রথম নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচন অভিযোগমুক্ত ছিল কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠেছে। বগুড়া-৬ আসনে বড় ধরনের অভিযোগ না থাকলেও শেরপুর-৩ আসনে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।
তিনি জানান, ওই আসনে জামায়াত প্রার্থী নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন যে ব্যালট পেপারে আগেই স্বাক্ষর করা ছিল। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি জামায়াতের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া ও মারধরের ঘটনাও তুলে ধরা হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
মাসুদ কামাল প্রশ্ন তোলেন, কেন একটি নির্বাচন সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গেল না। নির্বাচন কমিশন আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন আয়োজনের কথা বললেও বাস্তবে তা প্রতিফলিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি যথেষ্ট সতর্ক ছিল না। স্থানীয় নেতাকর্মীদের আগে থেকেই সতর্ক করা হলে এবং স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল নির্বাচন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া। তিনি সতর্ক করে বলেন, সেই একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যেন আবার না ঘটে, যদিও এর লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।