সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য: প্রধানমন্ত্রী
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানী এলাকার টেলিফোন ও টেলিযোগাযোগ সংস্থার খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় পরিবার কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নারীদের স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে চার কোটি পরিবারের হাতে পরিবার কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী মাসের মধ্যেই কৃষক কার্ড কার্যক্রম চালু করা হবে। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার কড়াইল ও ভাসানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরসহ দেশের মোট ১৪টি স্থানে এ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত নারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। তবে তারা এ সময় অন্য কোনো ভাতা বা সরকারি সুবিধা পাবেন না। পরিবারের অন্য সদস্য কেউ ভাতা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।
পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর কড়াইল ও ভাসানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাসন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালিসামগ্রী এবং প্রবাসী আয়ের তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।
প্রাথমিকভাবে নারীপ্রধান ৬৭ হাজার ৮৫৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দারিদ্র্য সূচকের ভিত্তিতে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়।
পরে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী হওয়ার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।