বেতন ছাড়াও যেসব সুবিধা পান সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে জয়ী দলগুলোর মধ্যে ৬টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পাচ্ছে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা পাচ্ছেন একটি আসন।
তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা কি সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মতো একই সুবিধা ভোগ করেন?
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত ও সাধারণ আসনের এমপিদের মধ্যে কোনো ধরনের পার্থক্য নেই। উভয় ক্ষেত্রেই সংসদ সদস্য হিসেবে মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্ব একই। অর্থাৎ সংরক্ষিত নারী এমপিরাও সরাসরি নির্বাচিতদের মতোই সব সুবিধা পান।
সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধিত হয়।
বেতন ও মাসিক ভাতা
একজন সংসদ সদস্য প্রতি মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকা ভাতা এবং ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা। এছাড়া পরিবহন বাবদ মাসে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ব্যক্তিগত খাতে লন্ড্রি বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ ব্যয়ের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
গাড়ি আমদানি সুবিধা
সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। নির্ধারিত শর্তে একজন এমপি তার মেয়াদকালে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই সুবিধায় নতুন গাড়ি আনার সুযোগও থাকে। তবে বর্তমান সংসদের সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এই সুবিধা না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা
সংসদ অধিবেশন, কমিটির সভা বা দাপ্তরিক কাজে যাতায়াতে এমপিরা ভ্রমণ ভাতা পান। রেল, বিমান বা নৌপথে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে কিলোমিটার অনুযায়ী ভাতা নির্ধারিত আছে। এছাড়া বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা সমমূল্যের ট্রাভেল সুবিধা দেওয়া হয়।
দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক ৭৫০ টাকা ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পাওয়া যায়। অধিবেশন বা কমিটির সভায় অংশগ্রহণ করলে দৈনিক ৮০০ টাকা এবং ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারিত হারে প্রদান করা হয়।
চিকিৎসা, বিমা ও অন্যান্য সুবিধা
সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করেন। পাশাপাশি মাসে ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।
নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা, যা দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। এছাড়া বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ এবং মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিল বহন করা হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত এসব ভাতা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। অতীতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এমপিদের প্লট বরাদ্দ দেওয়ার নজিরও রয়েছে।