ডিএনসির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা: ১৮ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২৬ এএম
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-এর নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার অভিযোগে ১৮ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জন পরীক্ষার্থী উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করছিলেন, আর ১৩ জন প্রক্সি দিতে গিয়ে হাতে-নাতে ধরা পড়েন। শনিবার অনুষ্ঠিত ১৭তম ও ১৮তম গ্রেডের লিখিত পরীক্ষায় এই ঘটনা ঘটে।
ডিএনসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রদান করেন। সংস্থার সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) মোস্তাক আহমেদ জানান, ডিএনসি’র কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে চলতি বছরের ৬ আগস্ট সিপাহী (১৭তম গ্রেড) পদে ১০৫টি ও ওয়্যারলেস অপারেটর (১৮তম গ্রেড) পদে ১২টি শূন্যপদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তির পর সিপাহী পদে প্রায় ২৬ হাজার এবং ওয়্যারলেস অপারেটর পদে প্রায় ১১ হাজার প্রার্থী আবেদন করেন। বিভিন্ন ধাপের শারীরিক পরীক্ষা ও প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) পরীক্ষার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য যথাক্রমে ১,১৫৪ জন ও ১২৬ জন প্রার্থীকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়। শনিবার অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন সিপাহী পদে ১,০৮২ জন এবং ওয়্যারলেস অপারেটর পদে ১২৪ জন প্রার্থী।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষার আগে থেকেই ডিএনসি কর্তৃপক্ষ প্রতারণা চক্রের বিষয়ে সতর্ক ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরীক্ষাকালীন সময়ে অনিয়ম শনাক্ত হলে মোট ১৮ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে ছিল অত্যাধুনিক স্পাই কমিউনিকেশন ডিভাইস, যা দুটি অংশে বিভক্ত— ইয়ারপিস মাইক্রোফোন ও জিএসএম কার্ড (ক্রেডিট কার্ড আকৃতির)।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় সক্রিয় ছিল। তবে এবার পূর্ব সতর্কতার কারণে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে।