১১ নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা: ১৮ বছরেও কার্যকর হয়নি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
১১ জন নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আলোচিত ধারাবাহিক খুনি রসু খাঁ গ্রেপ্তারের প্রায় দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। এ ঘটনায় আবারও দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই দ্রুত বিচার ও দণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
তদন্তে ধীরগতি, রায় ঘোষণার দীর্ঘ সময় এবং আপিল প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে বহু আলোচিত মামলার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। গত বছর আট বছর বয়সী আছিয়া হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও সেটিও এখনো আপিল পর্যায়ে রয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মদনা গ্রামের বাসিন্দা রসু খাঁ প্রথমদিকে ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর টঙ্গী এলাকায় একটি মসজিদের পাখা চুরির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে একের পর এক ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের তথ্য।
তদন্তে জানা যায়, রসু খাঁ নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি ১১ জন নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন। তার আরও ভয়াবহ লক্ষ্য ছিল ১০১ জন নারীকে হত্যার পরিকল্পনা।
জানা যায়, প্রেমে ব্যর্থতা এবং এক পোশাকশ্রমিককে কেন্দ্র করে গণপিটুনির ঘটনার পর নারীদের প্রতি তার প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হয়। এরপর তিনি প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলতেন।
২০০৭ সালের শুরুতে নিজের শ্যালকের স্ত্রী রীনাকে হত্যার মধ্য দিয়েই তার ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড শুরু হয় বলে জানা যায়।
তার শিকার অধিকাংশই ছিলেন ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পোশাকশ্রমিক নারী। ফরিদগঞ্জে ছয়জন, চাঁদপুর সদরে চারজন এবং হাইমচরে একজনকে হত্যা করা হয়। অনেক ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তদন্তেও জটিলতা তৈরি হয়।
তার বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলা হয়, যার মধ্যে নয়টি হত্যা এবং একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলা।
২০১৮ সালের ৬ মার্চ চাঁদপুরের আদালত রসু খাঁসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আপিল প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই উচ্চ আদালত তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। তবে রায়ের পরও এখনো তার ফাঁসি কার্যকর হয়নি।
বর্তমানে ৫২ বছর বয়সী রসু খাঁ গাজীপুরের কাশিমপুর উচ্চ নিরাপত্তা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির সেলে বন্দি আছেন।
দীর্ঘ ১৮ বছর কারাবাসে থেকেও তাকে দেখতে কোনো স্বজন বা পরিচিতজন যাননি বলে জানা গেছে। এখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— এত গুরুতর অপরাধ ও আদালতের চূড়ান্ত রায় থাকা সত্ত্বেও কেন বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকে এমন দণ্ড কার্যকর।