বর্ষা–মাহিরের প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনের হত্যাকাণ্ডের পেছনে উঠে এসেছে প্রেমঘটিত জটিলতার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনের খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা জানিয়েছেন, তার ও প্রেমিক মাহির রহমানের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তবে খুনের ঘটনায় সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা বর্ষা অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

ওসি বলেন, “ছাত্রী বর্ষা ও মাহির রহমানের মধ্যে ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাহির বুরহান উদ্দিন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, আর বর্ষা ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি বর্ষা জানান, তিনি জোবায়েদকে পছন্দ করেন। এই কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে মাহির ও তার বন্ধু মিলে জোবায়েদকে খুন করে।”

তিনি আরও জানান, বর্ষা ও জোবায়েদের মধ্যে সরাসরি কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না, এমনকি মেসেজ আদান–প্রদানেও তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু বর্ষার কথার ওপর ভিত্তি করেই মাহির হত্যার পরিকল্পনা করে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদের বন্ধু সৈকতের পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকে। সেই সূত্রেই ঘটনার পর সৈকতকে মেসেজ করে জোবায়েদের মৃত্যুর খবর জানায় বর্ষা।
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্ষাকে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো আতঙ্ক বা অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং পুরো সময়ই তাকে চিন্তামুক্ত দেখা গেছে।”

জানা যায়, নিহত জোবায়েদ হোসাইন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি একই সঙ্গে কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন।
তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় নূরবক্স লেনের রৌশান ভিলা নামের এক বাসায় বর্ষাকে টিউশন পড়াতেন। রবিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওই বাসার তিনতলায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখেন।
রাত ১১টার দিকে পুলিশ বর্ষাকে হেফাজতে নেয় এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে থানায় নিয়ে যায়।
খুনের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পার হলেও মামলা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন জোবায়েদের পরিবার।

জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বলেন, “আমরা ওই ছাত্রী বর্ষা, তার বাবা-মা, প্রেমিক মাহির ও তার বন্ধু নাফিসের নামে মামলা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওসি রফিকুল ইসলাম এতজনের নামে মামলা না করার পরামর্শ দেন।”
তবে তিনি বলেন, “আমরা ন্যায্য বিচার চাই, হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।”

ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, “পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা নেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছি।”

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495