সব বন্ধ করে দেওয়া উচিত, ভারত থেকে বাংলাদেশে কিছুই যাবে না: শুভেন্দু অধিকারী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৯ পিএম
বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আবারও কড়া বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট জবাব না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করার কথাও বলেছেন শুভেন্দু।
মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ময়মনসিংহে দীপু দাস নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের উপদূতাবাস থেকে সুস্পষ্ট উত্তর না পাওয়া গেলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় হলেও ব্যক্তিগতভাবে তার মত হলো—ভারত থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এবিভিপি ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চসহ একাধিক সংগঠনের ডাকে কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাস অভিমুখে মিছিল হয়। তবে উপদূতাবাসের আগে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকে দিলে ধস্তাধস্তি ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে।
শুভেন্দু অধিকারী আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্যেরও সমর্থন জানান। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বাংলাদেশের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেছিলেন বলে জানান শুভেন্দু।
এদিকে এ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নীরবতা রহস্যজনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তৃণমূল জানায়, কেন্দ্র নিষ্ক্রিয় থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনেতার মতো ভূমিকা রাখছেন।
তৃণমূল আরও অভিযোগ করে, কেন্দ্রের নীরবতার সুযোগ নিয়ে রাজ্য বিজেপি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। শুভেন্দু অধিকারীর আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দলটি প্রশ্ন তোলে, অন্য দেশের সরকারকে প্রশংসা করা কি দেশবিরোধী আচরণ নয়।