পিঠে ফোন ঠেকিয়ে ‘বাংলাদেশি’ যাচাই, ভারতীয়দের হেনস্তার ভিডিও ভাইরাল
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ এএম
ভারতের বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশে পিঠে মোবাইল ফোন ঠেকিয়ে ‘বাংলাদেশি’ যাচাইয়ের এক অভিনব পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাংলাদেশি সন্দেহে এক ভারতীয় নাগরিককে এভাবে হেনস্তা করছে পুলিশ। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বি থানার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর অজয় শর্মা এক ব্যক্তির পিঠে একটি যন্ত্র বা মোবাইল ফোন ঠেকিয়ে দাবি করছেন, সেটির মাধ্যমে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা যায়। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি বাংলাদেশের লোক নও তো?’ ওই ব্যক্তি নিজেকে বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিলেও পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘মেশিন তো বাংলাদেশি দেখাচ্ছে।’
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা ওই পরিবারের দেখানো পরিচয়পত্রের দিকেও তেমন গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির সদস্যরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। পেশায় মাছ বিক্রেতা ৭৬ বছর বয়সি মহম্মদ সিদ্দিক বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি গাজিয়াবাদে থাকলেও বাংলাদেশি বলে ভয় দেখানো হয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গাজিয়াবাদ পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ ডিসেম্বর। সেদিন রোহিঙ্গা ও অবৈধ বাংলাদেশি শনাক্তের উদ্দেশ্যে ভোয়াপুর বস্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পুলিশ, আরআরএফ ও সিআরপিএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং বাসিন্দাদের আধার কার্ড পরীক্ষা করা হয়।
এ বিষয়ে উত্তর প্রদেশ পুলিশের ডিসিপি নিমিশ পাতিল জানান, ভিডিওটি রুটিন তল্লাশির সময় ধারণ করা হলেও পুলিশের আচরণ ও ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ইন্দিরাপুরম সার্কেলের এসিপিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বহু মানুষ হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কংগ্রেস নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধীর চৌধুরী।