'সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো ভাষণের নতুন রেকর্ড গড়েছে ভারত'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালে ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য ও সমাবেশের সংখ্যা নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থা। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট’-এর উদ্যোগে পরিচালিত ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’ (আইএইচএল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে অন্তত ১ হাজার ৩১৮টি ঘৃণাত্মক ভাষণ ও সমাবেশ নথিভুক্ত হয়েছে, যা দৈনিক গড়ে চারটিরও বেশি। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি এবং ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

গবেষণায় বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতকে কেন্দ্র করে তৈরি জাতীয় নিরাপত্তাজনিত আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে ভারতের ভেতরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়—বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই প্রবণতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর। ওই ঘটনায় ২৬ জন নিহত হন। এরপর পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত সীমান্ত ও আকাশপথে সামরিক অভিযান চালায়। চার দিনের সংঘর্ষ শেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ওই সময়ের মধ্যেই দেশজুড়ে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ এপ্রিল থেকে ৭ মে—মাত্র ১৬ দিনে ৯৮টি সরাসরি ঘৃণামূলক ভাষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতেই প্রায় ৯০ শতাংশ ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশে সর্বাধিক ২৬৬টি, মহারাষ্ট্রে ১৯৩টি, মধ্যপ্রদেশে ১৭২টি, উত্তরাখণ্ডে ১৫৫টি এবং দিল্লিতে ৭৬টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুসলিমদের দেশবিরোধী বা ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু’ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট’-এর নির্বাহী পরিচালক ইভিয়ানে লেডিগ বলেন, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা ঘৃণা ছড়ানোর জন্য এক ধরনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, যা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির নামে বিদ্বেষকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন না থাকা সত্ত্বেও ঘৃণাত্মক বক্তব্যের এমন ঊর্ধ্বগতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি ইঙ্গিত করে যে, ঘৃণা ভারতের নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নথিভুক্ত ঘটনার প্রায় এক-চতুর্থাংশে সরাসরি সহিংসতার আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৩০টির বেশি ঘটনায় অস্ত্র ধরার ডাক এবং ২৭০টির বেশি বক্তব্যে সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় ধ্বংস বা অপসারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’, ‘পপুলেশন জিহাদ’ ও ‘ভোট জিহাদ’-এর মতো ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিরোধী কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, প্রকাশিত পরিসংখ্যান বাস্তব চিত্রের সামান্য অংশ মাত্র। তার মতে, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে ঘৃণার বিস্তার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নীরবতার ইঙ্গিত দেয়। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনটি আরও সতর্ক করে বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়িয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখছে। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে এসব ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়ালেও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গবেষকেরা।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495