হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচলের সুযোগ পাবে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজ: ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ইরানের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হলেও এখন ইরান বাছাই করা কিছু দেশের জন্য এই রুট ব্যবহার করতে অনুমতি দিচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদে প্রণালি পার হওয়ার জন্য নিয়মিত তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
আরাঘচি জানিয়েছেন, যেসব দেশকে ইরান বন্ধু মনে করে বা বিশেষ প্রয়োজনে অনুমতি দেয়, তাদের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পাহারার ব্যবস্থা করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই বিশেষ তালিকায় চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশ রয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতের দুটি জাহাজ প্রণালি পার হয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়েছে।
তবে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য পথ খোলা থাকলেও শত্রু রাষ্ট্রের জাহাজের জন্য কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে ইরান। আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেসব দেশকে ইরান প্রতিপক্ষ মনে করে বা যারা চলমান যুদ্ধে সরাসরি জড়িত, তাদের জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না।
তিনি বলেন, পুরো অঞ্চল এখন যুদ্ধক্ষেত্র, তাই শত্রু রাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জন্য কোনো চলাচলের সুযোগ নেই। ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই জলপথে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এতে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ তেহরানের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
শিপিং তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ মার্চ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও চলতি মাসে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এবং ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে ইরান এই জলপথকে তাদের প্রধান কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য ইরানের এই বিশেষ ছাড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি