সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে বড় চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের জন্য দেশে সামরিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে। এজন্য চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিক চুক্তি করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘ইউএভি ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট ও প্রযুক্তি হস্তান্তর’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা বৈদেশিক মুদ্রায় ড্রোন কারখানা স্থাপন ও প্রযুক্তি আমদানি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চার অর্থবছরে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে, চলতি অর্থবছরে ১০৬ কোটি টাকা এবং পরবর্তী তিন অর্থবছরে ১৫৫ কোটি টাকা করে, শেষ বছর ১৫৪.৬০ কোটি টাকা। বাকি ৩৭.৪৭ কোটি টাকা দেশীয় মুদ্রায় এলসি খোলার চার্জ, ভ্যাট ও সুইফট চার্জ হিসেবে পরিশোধ হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ দেশেই ড্রোন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা অর্জন করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে। প্রকল্পের জন্য বিমান বাহিনীর বাজেটে আলাদা কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে সশস্ত্রবাহিনী কর্তৃক গঠিত যৌথ কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সভাপতিত্বে জানানো হয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে একটি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি) উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য চীনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করবে বাংলাদেশ।
অর্থ মন্ত্রণালয় পাঁচটি শর্তে প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে একটি শর্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ব্যয় প্রদত্ত বরাদ্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে প্রয়োজনীয় অর্থ বিমানবাহিনীর বাজেটের মধ্যে সংকুলান করতে হবে। এছাড়া এই ব্যয় এলসির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে এবং অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না।
চীনের সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের একটি বড় করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ও সেবা বিশ্বের ১১০টির বেশি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স খাতে এটির প্রধান সেবা হলো এয়ার বেস সতর্কতা ব্যবস্থা, রাডার, যোগাযোগ ও ন্যাভিগেশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ইউএভি সরঞ্জাম এবং সমন্বিত আইএফএফ।