সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট, ২০ লাখের পণ্যে বিল ৫৮ লাখ টাকা!
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
জাতীয় সংসদের জন্য ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে বিভিন্ন পণ্য কেনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ হাজার টাকার একটি ব্যাগের দাম ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা। একইভাবে ৩ হাজার টাকার কার্ড রিডার কেনা হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ টাকায়। একটি ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরার বডি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, সেটির জন্য বিল করা হয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা। চারটি ক্যামেরা বডি মিলিয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে ক্যামেরা সেট কেনার জন্য সরকারের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকা, যেখানে সংশ্লিষ্টদের মতে প্রকৃত বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকারও কম।
সংসদের অধিবেশন উপলক্ষে দ্রুততার সঙ্গে এই কেনাকাটা সম্পন্ন করা হয়। ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহের কথা থাকলেও মাত্র ১৯ দিনের মধ্যেই সব সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করেছেন সদ্য বিদায় নেওয়া সংসদ সচিব কানিজ মাওলা—এমন অভিযোগও উঠেছে।
ক্যামেরাসংশ্লিষ্ট মোট ১২টি আইটেম কেনা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ফোকাল লেন্থের লেন্স কয়েকগুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২৪-৭০ এমএম লেন্সের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা, যা বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যান্য লেন্স, স্পিডলাইট, মেমোরি কার্ড ও ব্যাটারির ক্ষেত্রেও একই ধরনের মূল্যবৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া টেন্ডারে নির্ধারিত ব্র্যান্ডের পরিবর্তে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কিছু ক্ষেত্রে আলাদাভাবে লোগো লাগিয়ে ব্র্যান্ডেড পণ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে ‘সেফ ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দাম বেশি হওয়ার পেছনে ব্র্যান্ড, ভ্যাট ও ট্যাক্স দায়ী। তবে বাজারমূল্যের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য ও পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়মের মধ্যে দেখানো হলেও বাস্তবে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফারদের মতে, সংসদের মতো জায়গায় ছবি তোলার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার ক্যামেরা সেটই যথেষ্ট। সেখানে ৫৮ লাখ টাকার কেনাকাটা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক সচিব কানিজ মাওলার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।