উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন: বিএনপি পাবে ৫৬, জামায়াত ৩৬ ও এনসিপি তিনটি
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের অনুপাত অনুযায়ী প্রস্তাবিত ১০০ আসনের উচ্চকক্ষে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। হিসাব অনুযায়ী দলটি পেতে পারে ৫৬টি আসন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি পেতে পারে ৩৬টি আসন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে ৩টি আসন।
নির্বাচনে ২৯০ আসনে প্রার্থী দিয়ে বিএনপি এককভাবে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দলীয় জোটের মোট ভোট ৫১ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে ২২৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট এবং তাদের জোটের মোট ভোট ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে এনসিপি। এছাড়া চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পেতে হলে কোনো দলকে অন্তত ১ শতাংশ ভোট পেতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ১ শতাংশের কম ভোট পাওয়া দলগুলোর ভোট হিসাবের বাইরে থাকবে। এ হিসেবে আসন বণ্টনের প্রাথমিক গণনায় বিএনপি ৫৫ দশমিক ৭৮, জামায়াত ৩৫ দশমিক ৪৫, এনসিপি ৩ দশমিক ৪, ইসলামী আন্দোলন ৩ দশমিক ০১ এবং বাংলাদেশ খেলাফত ২ দশমিক ৩৩ আসন পায়। ভগ্নাংশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হিসাবে বিএনপি ৫৬, জামায়াত ৩৬, এনসিপি ৩, ইসলামী আন্দোলন ৩ এবং বাংলাদেশ খেলাফত ২টি আসন পেতে পারে।
নির্বাচনের দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। আদেশ অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। তবে বিএনপি আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদের প্রতি তিনটি সাধারণ আসনের বিপরীতে উচ্চকক্ষে একটি আসন দেওয়া হলে ১ বা ২ আসন পাওয়া দলগুলো উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পাবে না। এতে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফতসহ কয়েকটি দল বাদ পড়তে পারে।
এ প্রস্তাব নাকচ করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট থাকায় গণভোট হয়েছে এবং গণভোটে ৬৮ শতাংশ সমর্থন প্রথম আটটি সংস্কার প্রস্তাবকে বাধ্যতামূলক করেছে।
সাবেক ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ৩৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তার মতে, বর্তমান ফলাফলেও জুলাই সনদ অনুসরণ করলে উচ্চকক্ষে সংবিধান সংশোধনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপি পেতে পারে।