ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের জন্য সরকার একটি ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পুনর্বিন্যাস করার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী এপ্রিলের শেষ নাগাদ রাজধানীতে যানজটের পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ। বর্তমানে থাকা টার্মিনালগুলো শুধু সিটি সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত হবে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বাস কাউন্টারগুলোও অপসারণ করা হবে।
ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার জন্য ১২০টি সিগন্যাল পয়েন্টকে ধাপে ধাপে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। রাস্তার শৃঙ্খলা ফেরাতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার পাশাপাশি রাস্তার মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিও সরানো হবে। শহরের রেল ক্রসিংগুলোতে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম চালু করা হবে।
শহরের সব সিটি বাসকে জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আনা হবে যাতে কেন্দ্রীয়ভাবে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। যাত্রীদের সুবিধার্থে অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন এবং হাসপাতাল সংলগ্ন ব্রিজে দেশীয় প্রযুক্তিতে লিফট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে এই পরিকল্পনার অধিকাংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এ বিশাল কর্মযজ্ঞে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, রাজউক চেয়ারম্যান, বিআরটিসি চেয়ারম্যান ও পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানরাও সভায় অংশ নেন।