মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন যুগের সূচনা: সিন্ডিকেট রুখবে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রম অভিবাসন ইস্যুতে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালুর পাশাপাশি শূন্য খরচে কর্মী পাঠাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নতুন নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতো শ্রী রামানান রামাকৃষ্ণান। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার দ্রুত চালু করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের প্রভাব কমিয়ে আনা এবং অভিবাসন ব্যয় হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, মালয়েশিয়া একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করবে, যা সব কর্মী প্রেরণকারী দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নীতিমালা অনুসারে ‘নিয়োগকর্তা ব্যয় বহন করবে’—এই নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে নতুন এই ব্যবস্থা। এর ফলে কর্মীদের জন্য ‘শূন্য খরচে’ বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া আটকে পড়া কর্মীদের সমস্যা সমাধান, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সনদায়ন জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। মানব পাচার সংক্রান্ত চলমান মামলাগুলো নিয়েও দুই দেশ মতবিনিময় করে এবং আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
দুই দেশই নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করেছে। নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে এই অংশীদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়েও তারা একমত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট নির্ভরতা কমবে এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ হবে।