চাঁদা না পেয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, শ্রমিক দল নেতার বিচার চাইলেন বিএনপি নেতা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ও স্বজনদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শ্রমিক দল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শনিবার দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন (দক্ষিণ) শাখার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হাওলাদার। বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন।
তিনি জানান, গত ১১ মার্চ রাতে তার কনিষ্ঠ ছেলে রাশেদুল ইসলামের বৌভাত উপলক্ষে সদর ইউনিয়নের সামুদাবাদ গ্রামে নিজ বাড়িতে পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তার ভাগিনা, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান শাকিলসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সির নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল অনুষ্ঠানস্থলে এসে সোলাইমান শাকিলকে চলে যেতে বলে। অন্যথায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে অনুষ্ঠান পণ্ড করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোহরাব হাওলাদার আরও দাবি করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ভাগিনা সোলাইমান শাকিল, নাতি নিবিড় ইসলামসহ কয়েকজনকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও সোলাইমান শাকিল ও তার ছেলে নিবিড় ইসলাম এখনও চিকিৎসাধীন। নিবিড় ইসলাম একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সোহরাব হাওলাদার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও এবার দলের লোকজনের কাছেই তিনি চাঁদার দাবির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলের অনুষ্ঠান নষ্ট করে দিয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন নেতার কাছে গিয়েও কোনো বিচার পাইনি।” এ ঘটনায় তিনি পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, কিছু ব্যক্তি গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে এবং পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি ঘটনাস্থলে যান। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।