৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা জাতীয় পার্টির
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৫ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সব ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী এই ঘোষণা দেন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরকারদলীয় লোকজনের হুমকি-ধামকির কারণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টির গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। এরপরও দলটি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে একটি সংকটময় সময় পার করছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে। নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অবনতি হয়েছে বলেও দাবি করেন জাপা মহাসচিব। তার ভাষায়, বিগত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতে জাতীয় পার্টি অংশ নিলেও ভোটের দুই মাস আগে এমন পরিস্থিতি কখনো দেখা যায়নি।
শামীম পাটোয়ারী আরও বলেন, একটি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমঝোতা, উত্তেজনা প্রশমন এবং স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, অথচ তা নিয়ন্ত্রণে সরকার, নির্বাচন কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
সদ্য সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, প্রশাসন সাজানো নিয়ে যেসব মন্তব্য এসেছে, তাতে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তার আশঙ্কা, সামনে একটি পাতানো বা ইঞ্জিনিয়ার্ড নির্বাচন হতে পারে এবং কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করলেও আসন ভাগাভাগির রাজনীতি ও সংসদে অবস্থানের কারণে দলটিকে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই রাজনৈতিক অবস্থানের মূল্য দিতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় পার্টিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কিংবা নির্বাচন কমিশনের সংলাপেও ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শামীম পাটোয়ারী। বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীরা বাধার মুখে পড়ছেন এবং ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে দলটি নিষিদ্ধের দাবিও উঠেছে বলে জানান তিনি। এসব কারণে নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীরা আদৌ প্রচার চালাতে পারবেন কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
সব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দলের কেন্দ্রীয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে—ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই মনোনয়নপত্র জমা দেবে জাতীয় পার্টি। পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটি সবকিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর প্রতি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশ বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের দিকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। তার ভাষায়, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করে জাপা মহাসচিব বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমই নির্ধারণ করবে—ভবিষ্যতে কমিশনারদের গলায় ফুলের মালা পড়বে, নাকি জুতার মালা। ইতিহাস কখনোই পক্ষপাতিত্বের দায় থেকে কাউকে রেহাই দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, মো. আতিকুর রহমান আতিক, শেরীফা কাদেরসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।