কুড়িগ্রামে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৯ এএম
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ সময় অমান্য করে ধানের শীষের প্রচারণার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় এক সাংবাদিক আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের খাজার ঘাট এলাকার হারাণ আলীর বাড়িতে।
আহত সাংবাদিকের নাম সাব্বির মামুন। তিনি রাজিবপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং একটি অনলাইন ও দৈনিক পত্রিকার প্রতিনিধি।
সাংবাদিক সাব্বির মামুন জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার রাত ১২টা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ থাকার কথা থাকলেও সকালে ওই এলাকায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে খিচুড়ি ভোজের আয়োজনের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন—এমন তথ্য পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, নারী-পুরুষদের নিয়ে একটি আয়োজন চলছে। সেখানে রাজিবপুর মহিলা দলের তিন নেত্রীর হাতে ধানের শীষের হ্যান্ডবিল দেখা যায়। বিষয়টি জানতে চাইলে একজন বলেন, “আমরা নির্বাচনের মহিলা সমাবেশ করছি।” অপরজন বলেন, “আমরা এখানে শুধু দাওয়াত খেতে এসেছি।” এ সময় তাঁরা হ্যান্ডবিলগুলো লুকিয়ে রাখেন বলে দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিক সাব্বির মামুন আরও জানান, তিনি এক ভোটারের সঙ্গে কথা বললে ওই ভোটার জানান, তাঁদের খিচুড়ির দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এই তথ্য ভিডিও ধারণ করতে গেলে মহিলা দলের নেত্রী মাহমুদার নেতৃত্বে মহিলা দলের তিন নেত্রীসহ ১০–১২ জন তাঁকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে হামলা চালান এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিলা দলের নেত্রী মাহমুদা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন এবং বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে সাবেক যুবদল নেতা কবির হোসেন বলেন, “এটি সাধারণ একটি ঘটনা। এখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
তবে রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় রাজিবপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা গণতন্ত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
রাজিবপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।