রংপুরে তেলের লাইনে ১২ দিন ধরে পড়ে আছে মোটরসাইকেল, খোঁজ নেই চালকের
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
সারা দেশের মতো রংপুরেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের প্রভাব পড়েছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে। কোথাও দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন, কোথাও তেল নিয়ে বিবাদ, আবার কোথাও তৈরি হচ্ছে অদ্ভুত সব ঘটনা। এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে।
শহরের মেসার্স ইউনিক ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে রেখে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল ১২ দিন ধরে পড়ে আছে, কিন্তু এর চালকের কোনো খোঁজ মিলছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন স্টেশনটির কর্মীরা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে গিয়ে দেখা যায়, চালকবিহীন একটি মোটরসাইকেল স্টেশনে রাখা রয়েছে। এটি টিভিএস কোম্পানির মেট্রো প্লাস মডেলের, যার নম্বর রংপুর মেট্রো-হ ১১-০৫৭২।
স্টেশন সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল তেল নেওয়ার জন্য লাইনে মোটরসাইকেলটি রেখে যান এক ব্যক্তি। এরপর থেকে টানা ১২ দিন পার হলেও আর ফিরে আসেননি তিনি। এতে স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে।
ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনের বিক্রয় কর্মী আলমগীর ইসলাম জানান, প্রথম দিন লাইনে মোটরসাইকেলটি রেখে চালককে না দেখে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর অন্য গ্রাহকদের সুবিধার জন্য মোটরসাইকেলটি সরিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকে সেটি স্টেশনের পাহারাদারদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মালিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আরেক কর্মী বিপ্লব ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। কারণ মোটরসাইকেলটি এমন স্থানে রাখা হয়েছিল, যা ক্যামেরার আওতার বাইরে ছিল।
স্টেশনটির ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানান, মোটরসাইকেলটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেতে তারা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। দ্রুত মালিককে খুঁজে পাওয়া না গেলে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে তেলের লাইনে অপেক্ষমাণ অন্যান্য চালকরা বলছেন, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও অনেক সময় তেল পাওয়া যায় না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ মনে করছেন, বিরক্ত হয়েই হয়তো ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি ফেলে চলে গেছেন।
রংপুর পেট্রোল পাম্প ডিলারর্স, এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম মিন্টু বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেলও পাচ্ছেন না তারা। জেলায় ৪৮টি পাম্প থাকলেও সংকটের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি পাম্প বন্ধ থাকছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে চালকরা রংপুরে আসায় চাপ আরও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, সব পাম্পে নিয়মিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই সংকট অনেকটাই কমে আসত।