ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে থানায় হামলা, পুলিশের ফোন ভাঙচুর
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে থানার ভেতরে প্রবেশ করে হট্টগোল ও পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার ঘটনায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে ছাত্রদল নেতার পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) শাহজাদপুর থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মোটরসাইকেল কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধে এক ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে সমাধানের উদ্দেশ্যে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির আহমেদ থানায় যান। সেখানে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিনা। জড়িত না থাকলে চলে যেতে বলা হয়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাব্বির আহমেদ পুলিশের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে থানার বাইরে চলে যান। পরে তিনি শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাফায়েত আদিবসহ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পুনরায় থানায় প্রবেশ করেন।
এ সময় এক পুলিশ সদস্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন।
ঘটনার বিষয়ে সাব্বির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে আব্দুল্লাহ আল সাফায়েত আদিব দাবি করেন, মোটরসাইকেল সংক্রান্ত একটি ঘটনায় পুলিশ ঘুষ দাবি করেছিল। সাব্বির আহমেদ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথাকাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে তিনি মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেন এবং ওসির কাছে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
মোবাইল ভাঙচুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিডিও ধারণের সময় হঠাৎ করে কেউ ফোনটি নিয়ে ভেঙে ফেলেছে। তার অভিযোগ, পুলিশ বিনা কারণে সাব্বিরকে আঘাত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নতুন হওয়ায় তাকে চিনতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মামুন জুয়েল বলেন, সংশ্লিষ্টরা সংগঠনের অনুমতি ছাড়াই থানায় গেছেন। ব্যক্তিগত দায় সংগঠন নেবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকের উপস্থিতি ছাড়াই একদল যুবক থানায় এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে চড়াও হয়। এ সময় এক কনস্টেবলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।