ভিডিওতে হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা, তবুও মামলায় নেই নাম
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি তালিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, থানায় করা মামলার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। হামলার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে লোকজন জড়ো করা এবং ভিডিও ফুটেজে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলার সময় সামনের সারিতে থাকলেও মামলার আসামি তালিকায় তাদের নাম নেই। অন্যদিকে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে এবং অন্য পক্ষকে চাপে ফেলতেই এই মামলার আসামি তালিকা সাজানো হয়েছে।
মামলার বাদী নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। এজাহারে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দ্বিতীয় আসামি দৌলতপুর উপজেলা খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আসাদুজ্জামান। এছাড়া স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি রাজিব ও শিহাবসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।
শনাক্ত হওয়া হামলাকারীদের নাম বাদ পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাদী ফজলুর রহমান কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। তিনি এ বিষয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার সময় ধারণ করা প্রায় ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে হামলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সরাসরি অংশগ্রহণ স্পষ্ট দেখা গেলেও তাদের নাম মামলায় নেই। অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ ঘটনার আগে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অনুরোধ করেছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে ছাত্রদল নেতা জুবায়ের আহমেদ হামলার আগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কথিত পীর শামীমকে প্রতিহতের আহ্বান জানান। ভিডিও ফুটেজেও তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার দিন খাজা আহম্মেদের সঙ্গে তার একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি বলেন, খাজা আহম্মেদ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে এলাকায় ঝামেলা হলে তার নির্বাচনী পরিকল্পনায় সমস্যা হতে পারে এবং তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলার আসামির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়া এবং অন্য পক্ষকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলেন, ঘটনাস্থলে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও পরিকল্পিতভাবে তাদের বাদ দিয়ে জামায়াত নেতাদের জড়ানো হচ্ছে। তারা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, কোনো দলের নির্দেশে নয়, বরং জনতার ক্ষোভ থেকেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, হামলায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। ফুটেজে ছাত্রদল, যুবদল এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মীর সক্রিয় উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। হামলার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানিয়ে লোকজন জড়ো করার ঘটনাও উঠে এসেছে।
গত ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে ওইদিন কথিত পীর শামীমের আস্তানায় হামলা চালানো হয়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, মামলায় কাকে আসামি করা হবে তা বাদীর বিষয়। তবে তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।