নরসিংদীতে আদালতের রায় অমান্য করে অধ্যক্ষকে টেনে-হিঁচড়ে বের করলেন বিএনপি নেতারা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০১ পিএম
নরসিংদীর রায়পুরায় আদালতের রায় উপেক্ষা করে সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
রোববার সকালে কলেজ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি অধ্যক্ষকে বেল্ট ধরে টানাহেঁচড়া করছেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এ সময় আশপাশে থাকা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের অসহায়ভাবে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করতে দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে অধ্যক্ষ তার দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তার কক্ষে ঢুকে তাকে গালাগাল করেন এবং পরে হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে অফিস থেকে বের করে বারান্দায় এনে মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর স্থানীয় আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনসহ কয়েকজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে অপসারণের চেষ্টা করে আসছিলেন।
বিষয়টি আদালতে গড়ালে আদালত অধ্যক্ষের পক্ষে রায় দেন এবং তাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তবে অভিযুক্তরা সেই রায় মানতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাকে জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং তিনি বারবার অফিসেই কথা বলার অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, ২২ বছর দায়িত্ব পালন শেষে এমন ঘটনার মুখোমুখি হবেন তা কখনো ভাবেননি।
তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং তা না দেওয়ায় তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও শিক্ষানুরাগীরা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন ও নাজমুল হক বাদলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।