রাস্তা সংস্কারের নামে ৭ ফিট গর্ত খুঁড়ে ফেলে কাজ বন্ধ, দম বন্ধ অবস্থা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৯ পিএম
রাস্তা সংস্কারের নামে ৭ ফিট গর্ত খুঁড়ে ফেলে কাজ বন্ধ, দম বন্ধ অবস্থা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে রাস্তা সংস্কারের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই স্থবির অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাজারের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কের ঠিক মাঝখানে প্রায় ৭–৮ ফিট গভীর একটি বিশাল গর্ত খুঁড়ে রেখেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। দেখে মনে হয় যেন বড় কোনো নির্মাণকাজের প্রস্তুতি চলছে, অথচ এটি বাজার এলাকার প্রধান সড়ক, যার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল।
গর্তের ঠিক পাশেই রয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুদি, চা-পানের দোকান ও নিত্যপণ্য বিক্রির ছোটখাটো ব্যবসা। মাস শেষে দোকান ভাড়াই দিতে হয় ৪–৫ হাজার টাকা। এমন পরিস্থিতিতে দোকানের সামনে বিশাল গর্ত তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের বিক্রি একেবারে কমে গেছে। সংসার চালানো তো দূরের কথা, দোকান ভাড়াই তাদের জন্য এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন বলেন, “চা বিক্রি করে সংসার চলে। মাস শেষে ৪ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু দোকানের সামনে ৭–৮ ফিট গর্ত থাকার কারণে কাস্টমার প্রায় আসেই না। চেয়ারম্যান বলেছিলেন, একদিনেই ঠিক করে দেবেন, কিন্তু ২১ দিন পার হয়ে গেল—এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি। তিনি কাজ না করে ঢাকা সফর করে বেড়াচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে আবেদন, আমাদের যেন দ্রুত সমাধান দেওয়া হয়।”
আরেক ব্যবসায়ী আজিবর অভিযোগ করে বলেন, “ভেকু দিয়ে মাটি খুঁড়ে রেখেছে সপ্তাহের পর সপ্তাহ, কিন্তু কোনো কাজ করছে না। প্রকল্পের কাজ হবে বলেই এমন অবস্থা করে রেখেছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি কর্মী বলেন, “ভোটের আগে লোক দেখাতে এমন কাজ তিনি প্রায়ই করেন। অনেক কাজই ঠিকমতো সম্পন্ন না করেই বিল তোলা হয় বলে এলাকাজুড়ে কথাবার্তা রয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি সরজমিনে দেখার দাবি জানাই।”
২০২৪–২৫ অর্থবছরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১ম ও ২য় পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও নয়ারচর বাজার পাকার মাথা থেকে দক্ষিণের ইটের হেরিং পর্যন্ত সড়কের এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
রাজিবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, “আমি ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছি। চেয়ারম্যানকে দ্রুত রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
মুখ্য সড়কের এই অচলাবস্থা ও কাজের গাফিলতি স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা টিকে থাকা নিয়েও দেখা দিয়েছে বড় সংকট।