শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জড়িত ঢাবি ছাত্রদল নেতারা

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ এএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন কালেরকণ্ঠের মনজুর হোসেন মাহী, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান এবং ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন।

আহতদের মধ্যে মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পান। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও কালেরকণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মনজুর হোসেন মাহী জানান, ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিককে বাধা দেওয়া হয়। পরে তিনি নিজের পরিচয় দিলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সফি ওবায়দুর রহমান সামিথ তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করেন।

তিনি বলেন, পরিচয় দেওয়ার পরও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় জড়িতদের মধ্যে হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু জ্বার গিফারী ইফাত, সদস্য সচিব মনসুর রাফি, শহীদুল্লাহ হলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার, বিজয় একাত্তর হলের সাকিব বিশ্বাস ও সাজ্জাদ খান, সূর্যসেন হলের মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, জিয়াউর রহমান হলের কারিব চৌধুরী, কবি জসিমউদ্দীন হলের মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল এবং শেখ মুজিবুর রহমান হলের হাসানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় ও ইমাম আল নাসের মিশুকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদেরও হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী, রাইজিং বিডি ডটকমের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সৌরভ ইসলাম জানান, শফিকুর রহমান নামের এক কর্মীর আচরণের প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। পরে তাকে জোর করে ভিড়ের মধ্যে নিয়ে মারধর করা হয়। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনাস্থলে প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতারাও ছিলেন।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495