ভোলায় ভয়ঙ্কর কেলেঙ্কারি: অফিস সহকারির পকেটে তিনশ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৪৪ পিএম
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাকিমুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসায় ঘটেছে চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারি। অভিযোগ উঠেছে—প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারি কামাল উদ্দিন মিরাজ বছরের পর বছর শত শত ভুয়া শিক্ষার্থীর নামে সরকারের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি একাই প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছেন।
২০২১ সালের শেষ দিকে মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতনে অফিস সহকারি হিসেবে যোগ দেন কামাল উদ্দিন। তথ্যপ্রযুক্তিতে পারদর্শী হওয়ায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল তার হাতে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেন। ভর্তি ও উপবৃত্তি তথ্য তিনি সিস্টেমে এন্ট্রি করলেও, অনুমোদনের জন্য প্রিন্সিপালের মোবাইলে যাওয়া OTP কোড ব্যবহার করেই তিনি শত শত ভুয়া শিক্ষার্থী তৈরি করে ভুয়া নথি দিয়ে সেগুলো বৈধ প্রমাণ করেন।
পরিদর্শনে দেখা যায়, আলিম প্রথম বর্ষে প্রকৃত শিক্ষার্থী ছিলেন ৭৩ জন, কিন্তু সরকারি ওয়েবসাইটে দেখানো হয়েছে ১৩৩ জন। শুধু এই শ্রেণিতেই চার বছরে প্রায় ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী বাড়িয়ে আত্মসাৎ করা হয় আরও ১৮ লাখ টাকা, আর নবম ও দশম শ্রেণিতে আত্মসাৎ হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তিন শতাধিক ভুয়া শিক্ষার্থীর নামে তোলা হয় প্রায় ৫০–৫৫ লাখ টাকা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, “ঢাকা থেকে আসা পরিদর্শক দল মাদ্রাসার উপবৃত্তি সংক্রান্ত অনিয়ম ধরেছে। প্রিন্সিপাল দাবি করেছেন, তিনি অফিস সহকারির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন না, তবে OTP ব্যবহারের দায়িত্ব তারই ছিল।”
গত আগস্টে তদন্তের খবর পেয়ে কামাল উদ্দিন তড়িঘড়ি করে ভুয়া নাম মুছে ফেলতে গিয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের নামও মুছে দেন। ফলে শতাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, সরকারি ওয়েবসাইটে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে ৭৫০ জন, অথচ বাস্তবে ছিলেন মাত্র ৪৫০ জন। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, অনুমোদন কোড ব্যবহারের দায় থেকে প্রিন্সিপালও নৈতিকভাবে মুক্ত নন।
মাত্র ১২ হাজার টাকায় চাকরি শুরু করা কামাল উদ্দিন এখন এলাকায় পরিচিত কোটিপতি। তার রয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকার দোতলা বাড়ি ও ৩০ শতাংশ জমি। স্থানীয়দের ভাষায়, “যেখানে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর কথা, সেখানে দুর্নীতির অন্ধকারে ডুবে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।”
তদন্ত কমিটির সুপারিশে কামাল উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ এখনো প্রশমিত হয়নি।