রাজিবপুরের বালু যাচ্ছে জামালপুরে

দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার-ভেকু দিয়ে বালু লুট

মো. সাব্বির মামুন

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

ছবি: মফস্বল সংবাদ

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার ৩নং মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ড্রেজার ও ভেকু মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন এবং পাচারের ভয়াবহ কার্যক্রম। নদী রক্ষা বাঁধের মাত্র ২০০ ফুট দূরত্বে বিস্তীর্ণ এলাকায় ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর করে খনন চালানো হচ্ছে, যা পুরো এলাকার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রতিদিন শত শত ট্রলি ও কাঁকড়া গাড়িতে এসব বালু ও মাটি পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলায় পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অবৈধ বালু ব্যবসার নেপথ্যে রয়েছেন মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ রুহুল আমিন। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যেখানে তার ভাতিজি জামাই মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (নয়াচর ঘোঁচাবাড়ী) সরাসরি জড়িত। এছাড়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার জাকিরুল ইসলাম বাবুসহ স্থানীয় বিএনপির আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যেখানে বালু উত্তোলন চলছে, তা নদী রক্ষা বাঁধের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে। প্রতিদিন অন্তত ২০০ থেকে ৩০০টি ট্রলি বা কাঁকড়া গাড়ি বালু ও মাটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে বিশাল আকারের গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির চাপ বাড়লে এই গর্তের কারণে নদী রক্ষা বাঁধ ধসে পড়তে পারে। এতে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুহুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সহযোগী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো ইজারা নেইনি। জমিটি পড়ে থাকায় মালিকের কথায় মাটি কাটছি। ইউএনও সাহেবের কোনো অনুমতি আমাদের নেই, তবে এলাকার মেম্বাররা সবকিছু জানে। জামালপুরে দিনে পাঁচ হাজার গাড়ি মাটি কাটলে সমস্যা হয় না, আমরা কয়েক গাড়ি কাটলে কেন সমস্যা হবে? এ বিষয়ে আমরা সরাসরি দেখা করে আলাপ করতে চাই, আসেন চা খায়ই।"

অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানিয়েছেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার জন্য প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং আইনত সেই সুযোগও নেই। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। রোজার মধ্যেও একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং কাঁকড়া গাড়ি আটক করা হয়। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও তারা কার্যক্রম শুরু করেছে। খুব শিগগিরই পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দিন রাত সমানতালে কয়েকশ গাড়িতে বালু ও মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। এতে একদিকে গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষিজমিও ভাঙনের মুখে পড়ছে। প্রশাসনের দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ রয়েছে কি না।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে পুরো মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন। তাই অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495