এপস্টিন নথিতে নতুন দাবি: কিশোরীকে নির্যাতন করেছিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে প্রকাশিত নথিতে নতুন করে উঠে এসেছে একটি বিতর্কিত অভিযোগ। সেখানে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন।

পরিচয় প্রকাশ না করা এক নারী অভিযোগ করেছেন, তিনি যখন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ওপর অমানবিক আচরণ করেন। ওই নারীর দাবি, জেফরি এপস্টিনের মাধ্যমেই তার সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় হয়েছিল।

২০১৯ সালের অক্টোবরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তখন তার বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। প্রথমবার ট্রাম্পের সঙ্গে তার দেখা হয় নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে, যেখানে জেফরি এপস্টিনও উপস্থিত ছিলেন।

ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তিনি ট্রাম্পকে কামড় দিলে ট্রাম্প তাকে আঘাত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তার চুল ধরে টান দেন এবং মাথার পাশে ঘুসি মারেন।

তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার দাবি, মানসিকভাবে অসুস্থ এবং অপরাধমূলক অতীত রয়েছে—এমন একজন নারীর কাছ থেকে এই অভিযোগ এসেছে এবং এর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।

তিনি আরও বলেন, জো বাইডেন প্রশাসনের বিচার বিভাগ চার বছর ধরে এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের মতে, কারণ তারা জানত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ভুল করেননি।

ক্যারোলাইন লেভিটের দাবি, এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের মাধ্যমেই ট্রাম্পের নির্দোষতা প্রমাণিত হয়েছে।

এদিকে তদন্তকারী সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তদন্ত প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত নথি—যা ‘এফবিআই ৩০২’ নামে পরিচিত—সেখানে ওই নারী দাবি করেন, শুরু থেকেই ট্রাম্প তাকে অপছন্দ করতেন। তার ভাষায়, তিনি ছেলেদের মতো আচরণ করতেন বলে ট্রাম্প তাকে পছন্দ করতেন না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই নারী ঠিক মনে করতে পারেননি আর কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে তার দাবি, ট্রাম্প অন্যদের সরে যেতে বলার পর সবাই চলে যান।

ওই নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে আঘাত করার সময় ট্রাম্প বলেন, “এই মেয়েটাকে এখান থেকে বের করে দাও।” তিনি তদন্তকারীদের জানান, তিনি ট্রাম্পকে কামড়েছিলেন কারণ তিনি তাকে ঘৃণা করতেন।

নারীর দাবি, তাকে আঘাত করার আগে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছিলেন যার অর্থ ছিল ছোট মেয়েদের কেমন হওয়া উচিত তা শেখানো দরকার। এরপর তিনি নিজের প্যান্টের চেইন খুলেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এপস্টিন সংক্রান্ত প্রকাশিত নথিগুলোই প্রমাণ করে তিনি নির্দোষ।

অন্যদিকে এপস্টিনের নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার কিছু রাজনৈতিক মিত্র এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীরা। বিশেষ করে কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা এসব নথি প্রকাশের দাবি তুললে ট্রাম্প তাদের সমালোচনা করেন।

এদিকে এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প এপস্টিনের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। বিপরীতে ৩০ শতাংশ মানুষ মনে করেন তিনি তা করেননি।

গত মাসে পরিচালিত ইউগভের এক জরিপে দেখা যায়, ৯১ শতাংশ ডেমোক্র্যাট, ৫৫ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার এবং ১২ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন ট্রাম্প এপস্টিনের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছেন। তবে এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।

সূত্র: মিরর

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495