ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় রেকর্ড ধস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘায়িত যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানি খরচের ওঠানামার কারণে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, তার সমর্থন বা অনুমোদন হার বর্তমানে মাত্র ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি তার দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে সর্বনিম্ন রেকর্ড। চার দিনব্যাপী এই জরিপ গত সোমবার শেষ হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তার জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে নেমেছে। বিশেষ করে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা হারিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা।
২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় অর্থনৈতিক সংস্কার ছিল তার অন্যতম শক্তি। তবে বর্তমানে মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট। এমনকি এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সর্বনিম্ন অনুমোদনের চেয়েও কম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় এক ডলার বেড়ে গেছে। জরিপ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ আমান্ডা মাক্কি বলেন, “মানুষের কষ্ট প্রেসিডেন্ট বোঝেন, এটি জনগণের কাছে জানানো এখন জরুরি।”
যদিও রিপাবলিকান দলের কট্টর সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থান এখনও শক্ত, তবে এখানে ফাটল দেখা দিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তুষ্ট রিপাবলিকানদের হার এক সপ্তাহে ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৪ শতাংশে পৌঁছেছে। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে তার জনপ্রিয়তা ৪৭ শতাংশ ছিল, যা ক্রমে কমছে। তবে এটি এখনও তার প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশের চেয়ে কিছুটা বেশি।
জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ইরান হামলার নীতি সমর্থন করছেন মাত্র ৩৫ শতাংশ, যেখানে ৬১ শতাংশই বিপক্ষে। ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে আরও অনিরাপদ হবে। মাত্র ২৬ শতাংশ মনে করেন, এতে দেশ নিরাপদ থাকবে। ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন; যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে ৬৩ শতাংশ মানুষ বর্তমান অর্থনীতিকে দুর্বল বলে মনে করছেন। ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদ ডাগ ফারার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির এই নাজুক পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমলেও ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে না।
জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি ও অভিবাসন ইস্যুতে এখনও রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।