স্কুলে ফিরছে বেত্রাঘাতের শাস্তি, বুলিংয়ে দোষী শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর শাস্তি
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
সিঙ্গাপুরের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নতুন নীতিমালা চালু করেছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই বিধিমালায় বুলিং বা সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত ছেলেশিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চলতি সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে আলোচনা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত শিক্ষার্থীকে এক থেকে তিনবার পর্যন্ত বেত্রাঘাত করতে পারবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে সিঙ্গাপুরের শিক্ষামন্ত্রী ডেসমন্ড লি জানিয়েছেন, এই শাস্তি হবে ‘শেষ অবলম্বন’ হিসেবে ব্যবহৃত ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর অসদাচরণের গুরুত্ব বিবেচনায় অন্য সব ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে তবেই বেত্রাঘাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর প্রটোকল মানা হবে বলেও জানান তিনি।
ডেসমন্ড লির ভাষ্য, বেত্রাঘাতের অনুমোদন দিতে হবে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এবং এটি কার্যকর করবেন শুধুমাত্র অনুমোদিত শিক্ষকরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর মানসিক পরিপক্বতা ও এই শাস্তি তার আচরণ সংশোধনে সহায়ক হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এক বছরের পর্যালোচনার পর এই কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন স্কুলে ঘটে যাওয়া আলোচিত কয়েকটি বুলিংয়ের ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই নিয়ম শুধু উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী এবং এর বেশি বয়সী ছেলেশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী নারীদের বেত্রাঘাত করা নিষিদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। প্রয়োজনে তাদের কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন সহায়তা সেবাও দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত ছাত্রীদের ক্ষেত্রে আটক রাখা, সাময়িক বহিষ্কার, আচরণগত গ্রেড কমিয়ে দেওয়া ও অন্যান্য স্কুলভিত্তিক শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।
এদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে শারীরিক শাস্তির বিরোধিতা করে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের শারীরিক শাস্তি বহুমাত্রিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে এবং এর কোনো ইতিবাচক উপকারিতা নেই।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, শারীরিক শাস্তি শিশুদের জন্য নিষ্ঠুর ও অবমাননাকর আচরণ। তাদের মতে, বুলিং প্রতিরোধে বেত্রাঘাত কার্যকর—এমন কোনো প্রমাণ নেই এবং সিঙ্গাপুরের শিক্ষা ও বিচারব্যবস্থা থেকে এই প্রথা পুরোপুরি বাতিল করা উচিত।