এক লাখ সেনাসহ ভোটের মাঠে থাকবে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সুজন মাহমুদ, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন (স্থলভাগে ১ হাজার ২৫০), পুলিশ বাহিনীর ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, দেশজুড়ে দুই ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের কার্যক্রম রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিশেষ নির্বাচনি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে, যা আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৬ শেষ হবে। এছাড়া নির্বাচনে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে এবং বিভিন্ন বাহিনীর ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) প্রস্তুত করা এই অ্যাপের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম সংযুক্ত থাকবে, যা তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধানে সহায়ক হবে।
দুর্গম এলাকায় ব্যালট ও নির্বাচনি সামগ্রী পরিবহন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। নির্বাচন পূর্ববর্তী চার দিন সারাদেশে নিবিড় টহল চালানো হবে এবং চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় যৌথভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করার যেকোনো অপচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার কঠোরভাবে দমন করবে।
সভায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।