২০ দিনের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু, প্রার্থীদের জন্য কড়াকড়ি নির্দেশনা ইসির
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচারণা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা মোট ২০ দিন প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারণ অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন তারা।
নির্বাচনি প্রচারণা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রার্থীরা কী করতে পারবেন এবং কী করতে পারবেন না—সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসির আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার কিংবা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন ও রেকসিন ব্যবহারের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচনি জনসভা বা সমাবেশ আয়োজন করা যাবে, তবে তা আয়োজনের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কিংবা সড়ক, মহাসড়ক ও জনপথে সভা-সমাবেশ করা যাবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।
একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি হতে পারবে না। ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মাপ ও রঙের বিধিনিষেধ রয়েছে। সব প্রচারসামগ্রী হতে হবে সাদা-কালো এবং এতে প্রার্থী ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অনুমতি থাকলেও, প্রচার শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট পেজ বা অ্যাকাউন্টের তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার, গুজব ছড়ানো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণায় বাস, ট্রাক, নৌযান কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন নিয়ে শোডাউন, মিছিল বা মশাল মিছিল করা যাবে না। প্রচারে তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জাও নিষিদ্ধ থাকবে।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে।