কালের কণ্ঠের সাংবাদিককে বয়কট করে রাজিবপুরের তিন প্রেসক্লাবের যৌথ বিজ্ঞপ্তি
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে সরকারি চাল জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কালের কণ্ঠের উত্তরাঞ্চল ডিজিটাল ইনচার্জ সোহেল রানা স্বপ্নের বক্তব্যের প্রতিবাদে রাজিবপুর প্রেসক্লাব, রাজিবপুর উপজেলা প্রেসক্লাব ও রাজিবপুর মডেল প্রেসক্লাব যৌথভাবে নিন্দা জানিয়ে তাকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।
যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একজন গণমাধ্যমকর্মীর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা অভিযোগের দায় কোনোভাবেই পুরো সাংবাদিক সমাজ বা কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো যায় না। এ ধরনের বক্তব্য সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
রাজীবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সহিজল ইসলাম সজল বলেন, “সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। এখানে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান হওয়া উচিত। কিন্তু পুরো সাংবাদিক সমাজকে জড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।”
রাজিবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারা বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, কোনো সাংবাদিকের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় সাংবাদিক সমাজ বহন করবে না। এ ধরনের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং এটি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সম্মানকে হুমকির মুখে ফেলে।”
রাজিবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাংবাদিকদের হেয় করার চেষ্টা করে, তা প্রতিহত করা হবে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার করা হবে।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক সমাজ সবসময় সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থের পক্ষে কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজিবপুর উপজেলার শিবেরডাঙ্গী বাজার এলাকায় একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ৭১ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েকুল হাসান খান। এ ঘটনায় ফাতেমা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও কালের কণ্ঠের উত্তরাঞ্চল ডিজিটাল ইনচার্জ সোহেল রানা স্বপ্নকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাংবাদিকদের জড়িয়ে মন্তব্য করেন তিনি। এর প্রতিবাদে রাজিবপুরের তিনটি প্রেসক্লাব তাকে বয়কট করে যৌথ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।